ঈদযাত্রায় মহাসড়কে স্বস্তির আশা নেই
2022-04-17 02:00:19
ঝালকাঠী সদর
পবিত্র ঈদুল ফিতরে গ্রামে ফিরতে মহাসড়কে স্বস্তির আশা নেই। দেশের চারটি প্রধান মহাসড়কের মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা বেশি। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যানবাহনের জট তৈরির আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।
ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কার কারণ সড়কে নির্মাণকাজ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশেও সংস্কারকাজ চলছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড দুর্ভোগের কারণ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবশ্য এবার ভাঙাচোরা সড়ক তেমন একটা নেই।
ওদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের বড় সমস্যা পদ্মা পাড়ি দেওয়া। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে ফেরিতে বাস ও ট্রাক পারাপার হচ্ছে না। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ও ঘাট চাহিদার তুলনায় কম।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা প্রস্তুতির কথা শোনাচ্ছে সড়ক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্কারকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে গত শনিবার এক সভায় ২০ এপ্রিলের মধ্যে সব সড়ক চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে বলা হয়, যেখানে যেখানে মেরামত দরকার, তা আগে করে ফেলতে হবে। সূত্র জানায়, এর আগে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাস্তা মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সময় পাঁচ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা থাকছেই। তাঁরা বলছেন, এবার করোনার প্রকোপ কম। বেশিসংখ্যক মানুষ ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাবে।
ঈদে বগুড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যেতে চান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবারই ঈদে বাড়ি যেতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাগে। এবার আরও বেশি লাগতে পারে। কারণ, এবার চাপ বেশি হবে। ওদিকে সড়কেও কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক
ঢাকা থেকে যাঁরা উত্তরবঙ্গে যেতে চান, তাঁদের নবীনগর মোড় পার হতেই যানজটে ভুগতে হয়। নবীনগর-চন্দ্রার রাস্তাটিতে গাড়ি উঠতে পারলে প্রশস্ত সড়ক। চার লেন সড়ক ধরে যাওয়া যায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত। এ পথে মির্জাপুরের গোড়াইয়ে উড়ালসড়ক ঈদের আগেই খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু সমস্যা হলো বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যাওয়া।
পুলিশ সদস্য ও পরিবহনশ্রমিকেরা বলছেন, চার লেনের সড়ক ধরে এলেঙ্গা যাওয়ার পর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দুই লেনের সড়ক। সেতুও দুই লেনের। যানবাহনগুলো দুই লেনের মুখে আটকে যায়। সেখান থেকেই যানজটের শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল দিতে গিয়েও যানজট লেগে যায়। কয়েক বছর ধরে মূলত এ কারণেই যানজট হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজা সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যানবাহন সেতু পার হয়। ঈদযাত্রায় তা ৩০ থেকে ৩২ হাজারে উন্নীত হয়। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এদিকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ফলে মহাসড়কটির কোথাও সংকুচিত, আবার কোথাও একমুখী। এ সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই যানবাহন চলে ধীরগতিতে। চাপ একটু বাড়লেই যানজট দেখা দেয়।
ঢাকা থেকে বগুড়াগামী ট্রাকচালক আবদুর রাজ্জাক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সেতু পার হওয়ার পর থেকেই থেমে থেমে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। সামনে ঈদের সময় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হবে।
সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কথা চিন্তা করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো বিটুমিন-পাথর মিশিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য সচল করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পেরিয়ে চান্দাইকোনা থেকে চাপড়িগঞ্জ পর্যন্ত বগুড়ার ৬৫ কিলোমিটার সড়কের ১৬টি স্থানে এখনই দিনরাত যানজট তৈরি হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চান্দাইকোনা-সিরাজগঞ্জ বাজার এবং চান্দাইকোনা বগুড়া বাজারের মাঝামাঝি স্থানে কালভার্ট নির্মাণের কারণে রাস্তা একমুখী হয়ে গেছে। এটাই প্রচণ্ড যানজটের কারণ।
এদিকে সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন রোড (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২–এর প্রকল্প পরিচালক ওয়ালিউর রহমান বলেন, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নিরসনে এলেঙ্গায় রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলাচলকারী যানবাহনকে ভুঞাপুর হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নলকা ও চান্দাইকোনায় ঈদের আগেই নতুন সেতু চালু হবে। হাটিকুমরুল মোড়ে যানজট নিরসনে চলমান লেন কিছুটা প্রশস্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, মহাস্থান বাজারে বিটুমিন লেয়ারের কাজ শেষ করা হবে। মোকামতলা থেকে রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে না।