বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের প্রতীক ‘আল–কুদস’

2022-04-01 02:00:19 ইসলাম
বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের প্রতীক ‘আল–কুদস’
‘আল–কুদস’ ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদ, যা ‘মসজিদুল আকসা’ ও ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামে পরিচিত। ‘কুদস’ অর্থ পবিত্র। বায়তুল মুকাদ্দাস তথা মসজিদুল আকসা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ রজনীতে মসজিদুল হারাম তথা কাবাশরিফ থেকে মসজিদুল আকসা তথা বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রথম সফর করেন। তাঁর এ সফর ‘ইসরা’ নামে পরিচিত। ‘ইসরা’ নামে পবিত্র কোরআনে একটি সুরাও রয়েছে (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ১)। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজে গমনের সময় এ মসজিদে নবী-রাসুলদের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন। এতে তিনি ‘ইমামুল আম্বিয়া’ বা সব নবীর ইমাম ও ‘সাইয়েদুল মুরসালিন’ বা সব রাসুলের সরদার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এ এলাকা অসংখ্য নবী-রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত। এর আশপাশে অনেক নবী-রাসুলের মাজার রয়েছে। এটি দীর্ঘকালের ওহি অবতরণের স্থল, ইসলামের কেন্দ্র এবং ইসলামি সংস্কৃতির চারণভূমি ও ইসলাম প্রচারের লালনক্ষেত্র। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর তাঁর পুত্র হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে ‘আল–আকসা’ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এরপর তাঁর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলাইমান (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন। মানবজাতির প্রথমে কিবলা ‘কাবা’ শরিফ হলেও মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের পর এটি কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ওহি লাভ ও নবুয়ত প্রকাশের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসই কিবলা ছিল। নবীজি (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এ কিবলা পরিবর্তন হয়ে পুনরায় ‘কাবা’ কিবলা হিসেবে পুনর্নির্ধারিত হয়। এর সাক্ষী হিসেবে মদিনা শরিফে ‘মসজিদু কিবলাতাইন’ বা দুই কিবলার মসজিদ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। ঐতিহাসিক এ ঘটনাকে ‘তাহবিলে কিবলা’ বা কিবলা পরিবর্তন বলা হয় (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৪২-১৫১)। এ থেকেই ইসলামের দ্বিতীয় কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত হয়। হাদিস শরিফে রয়েছে, ‘কাবা শরিফ তথা মসজিদুল হারামে নামাজে এক লাখ গুণ সওয়াব, মদিনা শরিফে মসজিদে নববিতে নামাজে ৫০ হাজার গুণ সওয়াব, বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজে ২৫ হাজার গুণ সওয়াব।’ হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে ৬৪৮ সালে বায়তুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেমসহ পুরো ফিলিস্তিন সম্পূর্ণরূপে মুসলমানদের অধিকারে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রা.) আবার জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে খ্রিষ্টান ও ইহুদি চক্র ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এ অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ইহুদিরা তৎকালীন তুরস্কের শাসক সুলতান আবদুল হামিদের কাছে ফিলিস্তিনে বসতির অনুমতি চায়, দূরদর্শী সুলতান তাদের এ দুরভিসন্ধিমূলক প্রস্তাবে রাজি হননি। ১৯১৭ সালে ইংরেজরা ফিলিস্তিনে অনুপ্রবেশ করে এবং ১৯২০ সালে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে; অল্প সময়ের মধ্যে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে ইহুদির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দাঙ্গা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। এ সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যায়ভাবে মুসলমানদের ফিলিস্তিন ভূমিকে মুসলমান ও ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। ফলে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইহুদিবাদী অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে মুসলমানদের প্রতি ইহুদিদের জুলুম, নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে, যা আজও চলছে। ১৯৬৭ সালে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল ‘মসজিদুল আকসা’ জবরদখল করে। জালিম ইসরায়েল একের পর এক মুসলিম এলাকা জবরদখল করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখে এবং হত্যা-গুম চালিয়ে যাচ্ছে। ইহুদিদের ঘৃণ্য পরিকল্পনা সচেতন মুসলমানদের সংগ্রামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে পরিপূর্ণভাবে সফল হতে পারেনি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের এ প্রতিরোধ আন্দোলন সমর্থন করেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ‘আল–আকসা’ মসজিদ মুক্তির লক্ষে্য সমগ্র মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘আল–কুদস’ দিবস পালন করে। তখন থেকে সারা বিশ্বে দিনটি ফিলিস্তিন মুক্তির ও বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের প্রতীকরূপে পালিত হয়। এদিনকে ফিলিস্তিনের মুক্তির আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
সম্পর্কিত আরো খবর  
img
বিস্তারিত পড়ুন >

ইসরাইলের পতন নিয়ে কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী: সময় কি ঘনিয়ে এলো?

কুরআনের আলোকে ইসরাইলের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী

 প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৫ | প্রতিবেদক: Bengalivoices ইসলাম ডেস্ক

গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলা এবং অবিরাম গণহত্যা আজকের নয়, বহু বছরের...

১০ এপ্রিল ২০২৫ ০৫:৪০ AM
img
বিস্তারিত পড়ুন >

আকাশে চাঁদ, মনে আনন্দ, কাল ঈদের দিন

সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল

[ঢাকা, ৩০ মার্চ ২০২৫]: আজ রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা...

৫৮৮৫ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
আপনি আরো পড়তে পারেন  
img
বিস্তারিত পড়ুন >

এআই দিয়ে কিভাবে মৌলিক গান তৈরি করা যায়

স্টাফ রিপোর্টার।

২১শ শতাব্দীর সৃজনশীলতার নতুন যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের শিল্প-সংগীত–সাহিত্য সৃষ্টির ধরণ বদলে দিয়েছে। একসময় একটি গান তৈরির জন্য প্রয়োজন হতো একজন...

২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৪ AM
img
বিস্তারিত পড়ুন >

দীপ্ত প্লে এর তিন বছর পূর্তি: ডিজিটাল বিনোদনের নতুন দিগন্ত

স্টাফ রিপোর্টার।
বাংলাদেশে ডিজিটাল বিনোদনের জগতে গত কয়েক বছরে যে বিপ্লব ঘটেছে, তার অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো দীপ্ত প্লে। অনলাইন ভিত্তিক এই ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি যাত্রা...

২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪০ AM
img
বিস্তারিত পড়ুন >

বাংলাদেশের কুকওয়্যারের বাজার

অনলাইন ডেস্ক  

বাংলাদেশে রান্না ঘর মানে শুধু খাবার তৈরি নয় — মন, স্বাস্থ্য আর পরিচ্ছন্নতারও এক প্রকাশ। ভালো কুকওয়্যার (প্যাঁ, হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, প্যান ইত্যাদি) হলে রান্না সহজ হয়, তেল-কম...

২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:০৩ AM

img
বিস্তারিত পড়ুন >

প্যারিস : ইতিহাস, সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলন

অনলাইন ডেস্ক. 

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস বিশ্বজুড়ে পরিচিত “City of Light” বা “আলোক নগরী” হিসেবে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, স্থাপত্য, ফ্যাশন এবং রোমান্স—এই সবকিছুর মিলনে প্যারিস এক অনন্য...

২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:৩৭ AM
img
বিস্তারিত পড়ুন >

লুভর মিউজিয়াম: শিল্প, ইতিহাস ও সভ্যতার মহাগ্রন্থ

অনলাইন ডেস্ক. 

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিল্প জাদুঘর বলতে হলে নিঃসন্দেহে প্রথমেই যে স্থানের নাম উঠে আসে তা হলো ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম। এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়—এটি...

২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:১৮ AM
img
বিস্তারিত পড়ুন >

ফরাসি সাহিত্য: ইতিহাস, ধারা ও বিশ্বসাহিত্যে এর প্রভাব

অনলাইন ডেস্ক.

ফরাসি সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় এবং প্রভাবশালী সাহিত্যধারা। মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত ফরাসি ভাষা ও ফরাসি চিন্তাধারা শুধু ইউরোপকেই নয়,...

২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০২:৫৯ AM
পৃষ্ঠাসমূহ